হাফেজ মোঃ হাসান আলী (আল হাদিস অনার্স, ইসলামী স্টাডিজ এম.এ)
পরিচালক, মুমতাজুল উলূম তা'লীমুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসা • 1
"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তা'আলার জন্য, যিনি রাব্বুল আলামীন, যিনি আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে আজ এতদূর নিয়ে এসেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি আমাদের শিখিয়েছেন …"
🎙️ সম্পূর্ণ বাণী পড়ুন
"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তা'আলার জন্য, যিনি রাব্বুল আলামীন, যিনি আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে আজ এতদূর নিয়ে এসেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি আমাদের শিখিয়েছেন — জ্ঞান অর্জন প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ।
আজ থেকে বছর কয়েক আগে, যখন এই মাদ্রাসার স্বপ্ন প্রথম মনে জাগে, তখন আমাদের হাতে ছিল না কোনো বিশাল পুঁজি, ছিল না কোনো বড় সংগঠনের ছায়া। ছিল শুধু একটি দৃঢ় বিশ্বাস — যে সমাজে কুরআনের আলো নিভে যাচ্ছে দেখে বসে থাকা যায় না, কিছু একটা করতেই হবে। ২০১৯ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের এই মাটিতে যখন প্রথম কয়েকজন কোমলমতি শিশু নিয়ে যাত্রা শুরু করি, তখন অনেকেই সন্দিহান ছিলেন — এই স্বপ্ন কতদূর যাবে? আমরা কারো কাছে সাহায্যের হাত পাতিনি, কারো অনুদানের অপেক্ষায় বসে থাকিনি। নিজের সামান্য সঞ্চয়, নিজের শ্রম আর আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা নিয়েই এই পথচলা শুরু করেছিলাম।
শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না। একটি ক্লাসরুম জোগাড় করা, একজন যোগ্য শিক্ষক খুঁজে বের করা, প্রতিটি টাকা হিসেব করে খরচ করা — প্রতিটি ধাপেই ছিল পরীক্ষা। কিন্তু আমরা কখনো পথ থেকে সরে যাইনি, কারণ আমরা জানতাম, প্রতিটি শিশু যাকে আমরা কুরআনের প্রথম হরফ শেখাচ্ছি, সে একদিন একটি পরিবারের গর্ব হবে, একটি সমাজের আলোকবর্তিকা হবে।
আলহামদুলিল্লাহ, আজ যখন পিছনে ফিরে তাকাই, দেখি সেই কয়েকজন শিক্ষার্থী থেকে আজ শত শত কোমলমতি শিশু আমাদের প্রাঙ্গণে কুরআনের সুরে মুখরিত করে তোলে। প্লে শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে আমরা কুরআন, কালেমা ও হাদীস শরীফের পবিত্র জ্ঞানের পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মতো আধুনিক বিষয়ের সুষম সমন্বয় ঘটিয়েছি। আমাদের শিক্ষকমণ্ডলী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দায়িত্ববান, আমাদের প্রাঙ্গণ সিসি ক্যামেরার নিরাপত্তায় সুরক্ষিত, আর প্রতিটি মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য আমরা নিজস্ব অর্থায়নে উপবৃত্তির ব্যবস্থা রেখেছি — কারণ আমরা চাই না, কোনো মেধা অর্থের অভাবে থমকে যাক।
এই প্রতিষ্ঠান আমার কাছে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয় — এটি একটি আমানত, একটি ইবাদত, একটি জীবনব্যাপী সাধনা। প্রতিটি সকালে যখন শিশুদের কলরবে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়, তখন হৃদয়ে এক অনির্বচনীয় প্রশান্তি অনুভব করি — এই তো সেই স্বপ্ন, যা একদিন কল্পনায় ছিল, আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
কিন্তু আমাদের যাত্রা এখানেই থেমে নেই। আমরা স্বপ্ন দেখি আরও বড় পরিসরে — আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা, আরও সমৃদ্ধ পাঠ্যক্রম, এবং এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার, যারা কুরআনকে বুকে ধারণ করে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে, যারা হবে দ্বীন ও দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রে সফল, যারা একদিন এই দেশ ও জাতির প্রকৃত সম্পদ হয়ে উঠবে।
পরিশেষে, আমি সকল অভিভাবক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং এই প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত প্রতিটি মানুষের কাছে শুধু একটি জিনিস চাই — আপনাদের নিরন্তর দোয়া। কেননা দোয়াই আমাদের একমাত্র পুঁজি, আর তা-ই এই ক্ষুদ্র প্রদীপকে আরও দূর পর্যন্ত আলো ছড়াতে সাহায্য করবে, ইনশাআল্লাহ।
— হাফেজ মোঃ হাসান আলী
পরিচালক, মুমতাজুল উলূম তা'লীমুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসা"